প্রেমের টানে ঘড় ছেড়ে আমেরিকান নারী ফরিদপুরে


বয়স আর ধর্ম মানে না প্রেম। ফরিদপুরে একটি গ্রামে তারই একটি প্রমাণ পাওয়া গেল। ৪৫ বছর বয়সী আমেরিকান নারী শ্যারণ নিজ দেশ, ধর্ম আর বয়সকে তুচ্ছ করে ফরিদপুরের যুবক সিংকুরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বুধবার দুপুরে, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামে উৎসব মুখর পরিবেশে নবদম্পতির বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের আলাউদ্দিন মাতুব্বরের একমাত্র ছেলে আশরাফউদ্দিন মাতুব্বর সিংকু। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে মাষ্টার্সে পড়াশুনা করছেন। কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের নারী শ্যারণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরই মধ্যে তাদের দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর, গেল ২০শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন শ্যারণ।



অতঃপর, ফরিদপুর শহরের একটি হোটেলে উঠেন শ্যারণ। সেখান থেকেই বুধবার তাদের বৌভাত অনুষ্ঠিত হলো।স্থানীয়রা জানান, একজন বিদেশি নারীর সঙ্গে এলাকার যুবকের বিয়ে হচ্ছে তা তাদের মনেই হচ্ছে না। কারণ, নববধূর আচরণে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। এমনকি, নববধূ বাংলা না বুঝলেও তার ভাব ভঙ্গিতেই তারা বুঝে নিচ্ছেন কি বলতে চাচ্ছে নববধূ।এদিকে, মার্কিন নারীকে বিয়ে করায় বেশ খুশি ছেলের বাবা।


আর ছেলের মা জানান, ‘মেয়ে আমেরিকার হলেও তার আচার আচরণ বাঙালি মেয়েদের মতোই।’ আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এ নারীর সম্মান রয়েছে বলেও জানান বরের মা।তবে, মার্কিন নারী বাংলা জানেন এবং বোঝেন বলেও জানান এলাকাবাসী।মার্কিন নারীকে বিয়ে করার বিষয়ে বর আশরাফউদ্দিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,

‘প্রেম বয়স আর ধর্ম মানে না। আমি শ্যারণকে অত্যন্ত ভালোবাসি। শ্যারণও আমাকে ভালোবাসে বলেই আমাদের বিয়ে হয়েছে।’যুক্তরাষ্ট্রের নারীর সঙ্গে পরিচয় কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফউদ্দিন জানান, বছর দু’য়েক আগে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তাদের যোগাযোগ হয়।’কনে শ্যারণ বলেন, ‘আমি এদেশকে এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসি। আমার ভালাবাসার প্রমাণ হিসেবেই এই বিয়ে।’শ্যারণকে বরণ করে নিতে বর আশরাফের বাড়িতে আয়োজন করা হয় এক জমকালো অনুষ্ঠানের। এলাকাবাসীও তাদের বরণ করে নিয়েছেন উৎসবমূখর পরিবেশে।
Theme images by johnwoodcock. Powered by Blogger.